এম. মনছুর আলম, চকরিয়া :

কক্সবাজারের চকরিয়ায় প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি ও মা-মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও ‘পুলিশ পরিচয়ে’ এক কারারক্ষীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাতদল পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোনসহ প্রায় ৪ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

মঙ্গলবার (৯ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের চাঁদের বাপের পাড়া এলাকায় মাওলানা ফয়জুল আলমের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বাড়ির মালিক মাওলানা ফয়জুল আলমের মেজ ছেলে আব্দুল্লাহ আল মুস্তাহিদ বর্তমানে কুমিল্লা জেলা কারাগারে কারারক্ষী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কারারক্ষী আব্দুল্লাহ আল মুস্তাহিদ বলেন, রাত ২টার দিকে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি বাড়ির দরজায় এসে নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে বলে, “আপনাদের বাড়িতে আসামি আছে, দরজা খুলুন।” সে সময় পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন। পুলিশ পরিচয় শুনে কেউ কেউ জেগে ওঠেন। কথা বলার একপর্যায়ে দরজা খানিকটা খোলা হলে ডাকাতরা জোরপূর্বক ঘরে প্রবেশ করে।

তিনি জানান, ওই সময় তার ছোট বোনের স্বামী ওবায়দুল হকও বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। তিনি ফেনী জেলা কারাগারের কারারক্ষী হিসেবে কর্মরত। আগন্তুকদের হাতে থাকা অস্ত্র সরকারি বাহিনীর অস্ত্র নয় বলে সন্দেহ হলে তারা পরিস্থিতি বুঝতে পারেন। এরপর নারী সদস্যদের নিরাপদ স্থানে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে সবাইকে জিম্মি করে ফেলে।

ডাকাতরা বাড়ির বিভিন্ন কক্ষে প্রবেশ করে আসবাবপত্র তছনছ করে ব্যাপক তল্লাশি চালায়। প্রায় ২৫ মিনিট ধরে তাণ্ডব চালিয়ে তারা চার জোড়া স্বর্ণের কানের দুল, নগদ ৩০ হাজার টাকা, পাঁচটি মোবাইল ফোনসহ প্রায় ৪ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায় বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।

বাড়ির মালিক মাওলানা ফয়জুল আলম বলেন, ডাকাতির সময় তিনজন সশস্ত্র ব্যক্তি ঘরে প্রবেশ করলেও আরও পাঁচ থেকে ছয়জন বাইরে অবস্থান করে পাহারা দিচ্ছিল। লুটপাট শেষে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

ডাকাতির খবর পেয়ে রাতে হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ছালেকুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক (ইনচার্জ) শওকত হোসেন ডাকাতির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

চকরিয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) অভিজিৎ দাশ বলেন, বরইতলী ইউনিয়নে একটি বাড়িতে কয়েকজন ব্যক্তি প্রবেশ করে ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়েছে বলে তথ্য পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।